সোমবার, 5 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বাংলা একাডেমির সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে প্রথিতযশা এই চিন্তাবিদের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন
ছবি : সংগৃহীত

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বাংলা একাডেমির সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই।

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে প্রথিতযশা এই চিন্তাবিদের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম তাঁর শিক্ষকের প্রয়াণের খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। সেখানে হঠাৎ অসুস্থতা বোধ করলে তাকে দ্রুত জাতীয় হৃদরোগ ফাউন্ডেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুণী এই শিক্ষাবিদের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। শিক্ষাকতাকেই জীবনের মূল ব্রত হিসেবে বেছে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সুদীর্ঘকাল সুনামের সাথে অধ্যাপনা করেছেন তিনি।

রাষ্ট্রের সর্বস্তরে মাতৃভাষা বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করার আন্দোলনে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। লেখালেখি ও জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামের দুটি সুপরিচিত সাময়িকী সম্পাদনা করতেন তিনি। দীর্ঘ মননশীল জীবনে তাঁর বিশটিরও বেশি মৌলিক ও সম্পাদিত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’ এবং ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’ তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। এছাড়া তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘স্বদেশচিন্তা’র মতো আকর গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। মননশীল প্রবন্ধ ও গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।