অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন করে বসতি স্থাপনের প্রতিবাদে সেখানকার উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের অনুকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ফ্রান্স ও কানাডা।
মঙ্গলবার এক যৌথ বার্তায় দেশ তিনটি নিশ্চিত করেছে যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হিসেবে বিবেচিত এসব অঞ্চলের বাণিজ্য বন্ধে নিজ নিজ দেশে কার্যকর আইনি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা এবং ভূখণ্ড দখলের ক্রমবর্ধমান ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলের মোট ১২টি রাষ্ট্র ইসরায়েলি বসতি থেকে আসা পণ্যের লেনদেন সীমিত করতে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ চরম আকার ধারণ করেছে এবং স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে ফ্রান্সকে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ মন্তব্য করেন, এ ধরনের বেআইনি কার্যক্রম দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্র সমাধানের পথকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। একইভাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড কেবল মৌখিক সমালোচনার বাইরে এসে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন।
এই অর্থনৈতিক অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদোন সার ক্ষোভ প্রকাশ করে জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানান এবং গাজা বিষয়ক মার্কিন মিশন থেকে যুক্তরাজ্যকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেন।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিত্র দেশগুলোর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জানান যে ওয়াশিংটন এই নিষেধাজ্ঞায় শামিল হবে না, কারণ এতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। গাজা সংকট ও ভূখণ্ড দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে ইসরায়েলের সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন নতুন মাত্রা পেল।
সূত্র : রয়টার্স