রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ফ্ল্যাট থেকে মডেলের স্যুটকেসবন্দি লাশ উদ্ধার

কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার একটি অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে স্যুটকেসের ভেতর থেকে খ্যাতনামা মডেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিচিত মুখ নাতালিয়া ভিয়ালবার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ফ্ল্যাট থেকে মডেলের স্যুটকেসবন্দি লাশ উদ্ধার
ছবি : সংগৃহীত

কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার একটি অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে স্যুটকেসের ভেতর থেকে খ্যাতনামা মডেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিচিত মুখ নাতালিয়া ভিয়ালবার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ম্যাথিউ অ্যাশলে ফস্টার স্মিথ নামের এক ব্রিটিশ নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, ওই আবাসনের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা এক কর্মী বাথরুমের ভেতরে রাখা একটি ভ্রমণ ব্যাগের মধ্যে নাতালিয়ার মরদেহটি প্রথম দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে।

অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়েই ওই ব্রিটিশ নাগরিককে এই ঘটনার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অপরাধ সংঘটনের পর তিনি ছদ্মনাম ও ভুয়া ভ্রমণ নথিপত্র ব্যবহার করে কলম্বিয়া সীমান্ত পেরিয়ে ইকুয়েডরে চম্পট দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও যুক্তরাজ্যের ডরসেট পুলিশের সমন্বিত তৎপরতায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ওপর ভিত্তি করে কিতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে বন্দি করা হয়।

কলম্বিয়ার সরকারি প্রসিকিউটরদের দাবি, মডেল নাতালিয়া ফ্ল্যাটে একাকী থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেন এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে নিহতের দেহটি একটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাথরুমে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের হাতে আসা ভবনের নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বিছানার চাদরসহ কিছু ব্যবহার্য জিনিসপত্র বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের ধারণা, অপরাধের সপক্ষে থাকা বিভিন্ন আলামত ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিক থেকে নাতালিয়া ওই ফ্ল্যাটটিতে অবস্থান করছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্দিষ্ট সময়ের পর পরিচ্ছন্নতাকর্মী সেখানে প্রবেশ করলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

অবশ্য আটক হওয়ার পূর্বে ব্রিটিশ একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের সপক্ষে দাবি করেছিলেন, ঘটনার সময় তিনি একটি স্থানীয় পানশালায় বসে ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করছিলেন এবং পরবর্তীতে একটি বিপণিবিতানে গিয়ে আইসক্রিম খেয়ে আবারও খেলায় মনোযোগ দেন। এই খুনের সাথে নিজের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

তবে ব্রিটিশ পুলিশের অপরাধ সংক্রান্ত নথিতে দেখা গেছে, এই যুবকের বিরুদ্ধে পূর্বেও নানাবিধ অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। যার মধ্যে বিগত বছরে এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা ও উত্যক্ত করার অপরাধে তিনি দুই বছর কারাভোগও করেছিলেন।