বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বুকে ফুটবল ও টেনিস দুনিয়ার মহাতারকাদের নিয়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। একই মঞ্চে আলো ছড়িয়েছেন লিওনেল মেসি, নোভাক জকোভিচ, লিওনেল স্কালোনি, এমিলিয়ানো মার্টিনেস, স্পেনের মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও অধিনায়ক রদ্রি।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার রিও ফার্দিনান্দের সঞ্চালনায় প্রাণবন্ত এই আড্ডায় একপর্যায়ে যোগ দেন টেনিস কিংবদন্তি জকোভিচও।
হাইভোল্টেজ ফাইনালের আবহ ছড়ানো এই বিশেষ অনুষ্ঠানে নানাবিধ ফুটবলীয় আলোচনার ভিড়ে অবধারিতভাবেই উঠে আসে বার্সেলোনার নতুন বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল ও মেসিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করা সেই ঐতিহাসিক আলোকচিত্রটি। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বহু বছর আগে ক্যাম্প ন্যুর ড্রেসিংরুমে পিচ্চি ইয়ামালকে কোলে নেওয়ার সেই মুহূর্তের স্মৃতি এবং বর্তমান ফুটবল বিশ্বে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সকে তিনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এখন ওই ফ্রেমের পেছনের গল্পটি বেশ পরিচিত। সালটি ছিল ২০০৭, ডিসেম্বরের এক শীতকালীন সময়ে ইউনিসেফ ও স্প্যানিশ গণমাধ্যম দিয়ারিও স্পোর্তের একটি যৌথ দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল। সে সময় বিশ বছর বয়সী তরুণ মেসি একটি প্লাস্টিকের গামলায় মাত্র কয়েক মাস বয়সী শিশু ইয়ামালকে পরম যত্নে গোসল করিয়ে দিচ্ছিলেন, যার পরবর্তী শটে শিশুটিকে তোয়ালে জড়িয়ে কোলেও নিতে দেখা যায় বর্তমান বিশ্বজয়ীকে।
মঞ্চে সেই পুরনো দিনের স্মৃতির কথা মনে পড়তেই হাসিতে ফেটে পড়েন এলএমটেন। এক সময়ের সেই অবুঝ শিশু আজ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারই প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে—বিষয়টি ভাবতেই আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক বিস্মিত হচ্ছেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মেসি জানান, জীবন আসলেই বৈচিত্র্যময় এবং এই পুরো ঘটনাটি তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। যে ছোট্ট শিশুটির সঙ্গে এক দশক আগে তিনি ছবি তুলেছিলেন, সে আজ নিজ দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলছে, যা আসলেও রূপকথার মতো।
ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে আটটি ব্যালন ডি'অর জেতা এই কিংবদন্তি তরুণ স্প্যানিশ উইঙ্গারের ভূয়সী প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি। খুব অল্প বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের পাদপ্রদীপে চলে আসা ইয়ামালকে নিয়ে মেসি বলেন, সে একজন অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান ফুটবলার এবং বার্সেলোনার মতো ক্লাবে খেলার কারণে তিনি নিয়মিত তার খেলা দেখেন। বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকার সামনে এক বিশাল ভবিষ্যৎ পড়ে রয়েছে এবং নিজের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখার দারুণ সুযোগ রয়েছে তার সামনে। বার্সার স্বার্থেই তিনি ইয়ামালের ক্যারিয়ারের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।
তবে মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ মেসি। ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে ইয়ামালকে বোতলবন্দি করার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, ফাইনালে তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে দলগতভাবে সেরা ফুটবল খেলা, যাতে স্প্যানিশ এই তরুণ নিজের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে না পায়। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, কেবল ইয়ামাল একাই নন, প্রতিপক্ষ স্পেনের স্কোয়াডে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো আরও বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের ফুটবলার রয়েছেন।