আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এ রায় প্রদান করেন।
দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মো. নেজাম উদ্দিন চট্টগ্রামের পটিয়া থানার অন্তর্গত পূর্ব জিরি এলাকার নুরুল হক মেম্বারের বাড়ির প্রয়াত কবির আহমেদের সন্তান।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস. এম. কাওসার সাগর জানান, রাষ্ট্রপক্ষের পেশ করা ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি নেজাম উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। ঘোষিত রায়ে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আদালতে সশরীরে উপস্থিত থাকায় পরবর্তীতে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
নথিপত্রে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। দাম্পত্য জীবনের একপর্যায়ে শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে ভালো চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে গ্রাম পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে আসেন স্বামী নেজাম। তবে তিনি তাকে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না নিয়ে বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন। পরবর্তীতে সেই কক্ষ থেকেই শাহনাজ বেগমের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
উক্ত মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের ভ্রাতা মো. আজগর আলী অভিযোগ তোলেন, তার বোনকে সুপরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের শিকার করা হয়েছে। এরপর তিনি বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত সমাপ্ত করে পুলিশ মো. নেজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ সূচনা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে মঙ্গলবার আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করলেন।