শুক্রবার (১ আগস্ট) মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করে। জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মূলত ব্যবসায়িক প্রয়োজন এবং পর্যটন উদ্দেশ্যে প্রদান করা ‘বি-১’ ও ‘বি-২’ ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়মটি কার্যকর করা হচ্ছে।
ভিসা বন্ড মূলত এক প্রকারের ফেরতযোগ্য অর্থ বা আর্থিক জামানত হিসেবে বিবেচিত হয়। মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকদের অনুকূলে ভিসা মঞ্জুরের পূর্বশর্ত হিসেবে এই নির্দিষ্ট অঙ্কের জামানত দাবি করতে পারবেন। কোনো ভ্রমণকারী যেন ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, তা নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য।
নতুন নিয়মে সর্বোচ্চ বন্ডের অঙ্ক ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় ভিসা আবেদনকারীর সার্বিক আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জামানতের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক করবেন। উল্লেখ্য, পূর্বে পরিচালিত পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে এই বন্ডের মাত্রা ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।
তবে কনস্যুলারে নির্ধারিত বন্ডের অর্থ জমা দিলেই যে ভিসা প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে, বিষয়টি তেমনটি নয়। কোনো কারণে আবেদন নাকচ হলে কিংবা ভিসাধারী ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফর শেষ করে শর্ত মেনে দেশে ফিরে এলে জমাকৃত অর্থ পূর্ণ ফেরত দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত এই নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত ৫০টি রাষ্ট্রের তালিকায় প্রায় ৩০টি দেশই আফ্রিকা মহাদেশের। অন্যদিকে এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যতীত ভুটান, কম্বোডিয়া, জর্জিয়া, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, তাজিকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বন্ড ব্যবস্থার আওতায় ভিসা লাভ করা ভ্রমণকারীদের বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (বিওএস), জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে) এবং ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (আইএডি)—এই নির্দিষ্ট তিনটি আকাশপথের যেকোনো একটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান সম্পন্ন করতে হবে।
মার্কিন কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার পর অবৈধ অবস্থান রোখে এই কড়া পদক্ষেপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে অভিবাসন ও মানবাধিকার বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার ফলে বৈধ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতকারী সাধারণ পর্যটকদের বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হবে।
বিদ্যমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা ধরে) ২০ হাজার ডলারের মূল্যমান বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, যা মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভ্রমণপ্রত্যাশীদের জন্য একটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আগামী ৩ আগস্ট থেকে এই নতুন বিধানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।