আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি চা-বাগানঘেরা শ্রীলঙ্কার মধ্যভাগে ভারী বর্ষণের পর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয় এবং কয়েকটি স্থানে মাটি ধসে পড়ে। বিগত বছরের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় 'ডিটওয়াহ'-এর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষত না শুকাতেই অঞ্চলটি নতুন করে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ল।
দেশটির দুর্যোগ মোকাবেলা দপ্তরের গণমাধ্যম প্রতিনিধি প্রদীপ কোডিপ্পিলি নিশ্চিত করেছেন যে, পাহাড়ি ধসের কবলে পড়ে দুইটি বসতঘর ধ্বংস হলে পাঁচজন বাসিন্দা চাপা পড়ে প্রাণ হারান। অন্যদিকে বন্যার পানিতে ডুবে ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে এ পর্যন্ত শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিপন্ন প্রায় সাড়ে তিন হাজার নাগরিককে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দুর্গত মানুষদের সহায়তায় বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে। দেশটির স্থানীয় সম্প্রচার মাধ্যম হিরু টিভিতে প্রকাশিত চিত্রে দেখা যায়, প্লাবিত পথঘাট পেরিয়ে সেনাসদস্যরা আটকে পড়া সাধারণ নাগরিকদের উদ্ধার করে নিরাপদ অঞ্চলে পৌঁছে দিচ্ছেন।
নুওয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লার মতো মধ্য শ্রীলঙ্কার পাহাড়ি জেলাগুলো তাদের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সাধারণত বর্ষার সময়ে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের সময় এসব এলাকায় পাহাড় ধসের প্রাদুর্ভাব বহু পুরোনো।