পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে শোক ও শ্রদ্ধার আবহে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল শুরু হয়েছে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সকাল থেকেই এই ঐতিহাসিক স্থাপনা প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
কারবালার ঐতিহাসিক ও বেদনাবিধুর ঘটনাকে স্মরণ করে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ নাগরিকেরাও এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হন। সকাল ১০টায় সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হোসেনি দালান থেকে এই শোক মিছিলটি বের করা হয়।
মিছিলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হোসেনি দালান প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রাটি লালবাগ, নিউমার্কেট এবং ধানমন্ডি এলাকা অতিক্রম করে এর নির্ধারিত গন্তব্যে গিয়ে সমাপ্ত হবে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও যথাযথ মর্যাদা ও আত্মত্যাগের চেতনাকে সঙ্গী করে এই ঐতিহ্যবাহী মিছিলটি পরিচালিত হচ্ছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং তাজিয়া মিছিলের রুটসহ এর চারপাশের পরিবেশ শান্ত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্যরাও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে কাজ করছেন। দিবসটির গভীরতা প্রকাশে গোটা হোসেনি দালান এলাকা কালো কাপড়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীক এবং শোকবার্তায় সাজানো হয়েছে। মিছিলে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষকে সেখানে বসে বিশেষ মোনাজাত ও নফল ইবাদতে মগ্ন থাকতে দেখা গেছে।
ইসলামের ইতিহাসে মহররমের ১০ তারিখ তথা আশুরার দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ। হিজরি ৬১ সনের এই দিনে ফোরাত নদীর তীরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নবী দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তাঁর অনুসারীরা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রতি বছর ঢাকা শহরে এই বর্ণাঢ্য ও শোকাতুর মিছিলের আয়োজন করা হয়।
অন্যদিকে এই বড় ধর্মীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও মোড়গুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাজিয়া মিছিলটি যেন নির্বিঘ্নে এগিয়ে যেতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ সাময়িকভাবে কয়েকটি রাস্তার যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশনের ব্যবস্থা করেছে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল উপায়ে এই শোক কর্মসূচি সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।