শনিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর বিজোড়া ইউনিয়নের বিজোড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক নৃসংসতার ঘটনাটি ঘটে। প্রাণ হারানো শ্যামলী স্থানীয় সিরাজুল ইসলামের সন্তান। অন্যদিকে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান রংপুর জেলা সদরের কোতোয়ালি থানা এলাকার অধিবাসী।
এলাকাবাসী ও পুলিশ কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, প্রায় দু’মাস পূর্বে শ্যামলী ও মাহবুবুরের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি ঘটে। সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর থেকে ওই নারী নিজের পৈতৃক ভিটায় অবস্থান করছিলেন। শনিবার রাতে মাহবুবুর অনধিকার চর্চা করে শ্যামলীদের বসতবাড়িতে ঢোকেন। একপর্যায়ে সঙ্গে আনা দাহ্য পদার্থ সাবেক স্ত্রীর গায়ে ছিটিয়ে দিয়ে লাইটার জ্বালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেন।
উক্ত সময়ে ভুক্তভোগীর আর্তচিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে অভিযুক্ত চম্পট দেন। মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় শ্যামলীকে তাৎক্ষণিকভাবে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর প্রাণহানি ঘটে। পরবর্তীতে গভীর রাতে পুনরায় হাসপাতালে আনা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত হিসেবে নথিভুক্ত করেন।
বর্তমানে ময়নাতদন্তের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মরদেহটি স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ন্যাক্কারজনক এই কাণ্ড ঘটার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাহবুবুরকে জালে তোলে বিরল থানা পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান সরকার জানান, এই সংক্রান্ত আইনি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই মৃতদেহ স্বজনদের নিকট সোপর্দ করা হবে।