রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পিরোজপুরে ভরা মৌসুমেও নাগালের বাইরে ইলিশ

আষাঢ় ও শ্রাবণের বর্ষাকলে উপকূলীয় নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে প্রচুর ইলিশ মিলবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বাজারে দেখা মিলছে একদম বিপরীত রূপ। স্থানীয় হাটগুলোতে মাছের জোগান অত্যন্ত অপ্রতুল

পিরোজপুরে ভরা মৌসুমেও নাগালের বাইরে ইলিশ
ছবি : সংগৃহীত

আষাঢ় ও শ্রাবণের বর্ষাকলে উপকূলীয় নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে প্রচুর ইলিশ মিলবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বাজারে দেখা মিলছে একদম বিপরীত রূপ। স্থানীয় হাটগুলোতে মাছের জোগান অত্যন্ত অপ্রতুল।

হাতে গোনা কয়েকটি রূপালী ইলিশ সাজিয়ে রাখা হলেও সেগুলোর দর হাঁকা হচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে বিক্রেতাদের কাছ থেকে দাম জেনে মন খারাপ করে কেনাকাটা না করেই ফিরতে হচ্ছে সিংহভাগ সাধারণ ক্রেতাকে।

উপজেলার তুষখালী, সাপলেজা, বড় মাছুয়া বাজার এবং জেলা শহরের দক্ষিণ বন্দর মৎস্য বাজার ঘুরে দেখা যায়, সীমিত আকারে ইলিশ মিললেও মাত্রাতিরিক্ত দামের দরুন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য তা কেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আকারে কিছুটা ছোট অর্থাৎ সাড়ে চারশত থেকে ছয়শত গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সাতশত থেকে নয়শত গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে এক হাজার আটশত থেকে দুই হাজার টাকা। আর কেজি বা তার চেয়ে বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে নয় হাজার টাকা পর্যন্ত চড়া দামে।

উচ্চ মূল্যের এই প্রভাব কেবল ইলিশে সীমাবদ্ধ নেই, ধাক্কা লেগেছে অন্য মাছের বাজারেও। তপসী মাছ কেজিপ্রতি এক হাজার থেকে বারোশত টাকা, পোয়া মাছ চারশত টাকা, চিংড়ি এক হাজার সাতশত টাকা এবং পাঙ্গাস আড়াইশত থেকে তিনশত টাকায় হাতবদল হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের প্রতি কেজির মূল্য হাঁকা হচ্ছে চারশত থেকে ছয়শত টাকা।

দক্ষিণ বন্দর বাজারে বাজার করতে আসা হোসেন আলী রাব্বি জানান, ইলিশের উচ্চ দর শুনে কেনাকাটা না করেই ফিরে যাচ্ছেন তিনি। গৃহস্থালির অন্যান্য ব্যয় সামলে এই মূল্যে মাছ কেনা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তপসী মাছের দর চাওয়া হয়েছে বারোশত টাকা, যা বর্তমানে গরুর মাংসের দরকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আরেকজন ক্রেতা শাকিল আহমেদ প্রকাশ করেন, ঘরে দুটি ছোট সন্তান রয়েছে যারা মাছ ব্যতিরেকে খাবার খেতে চায় না। কিন্তু বাজারে মাছের যে আকাশছোঁয়া দাম, তাতে ভালো কোনো জাতের মাছ কেনা দায় হয়ে পড়েছে। ফলে নিরুপায় হয়ে প্রতিদিন পাঙ্গাস কিনেই ফিরতে হচ্ছে।

মৎস্য বাজারের আড়তদার মোস্তফা জানান, বর্ষার এই সময়ে পর্যাপ্ত মাছের আমদানি থাকার কথা থাকলেও বৈরী প্রকৃতির প্রভাবে জেলেরা সাগর কিংবা নদীতে যেতে পারছেন না। তাছাড়া যারা ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যাচ্ছেন, তারাও প্রত্যাশিত পরিমাণ শিকার করতে পারছেন না। মূলত সরবরাহের ঘাটতির কারণেই বাজারে দাম কিছুটা চড়া।