সোমবার, 5 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জুলাইয়ে রক্তঝরা বিপ্লব দেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার জাগরণ ছিল দেশের ইতিহাসের এক নজিরবিহীন ও মোড়ঘোরানো ঘটনা।

জুলাইয়ে রক্তঝরা বিপ্লব দেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার জাগরণ ছিল দেশের ইতিহাসের এক নজিরবিহীন ও মোড়ঘোরানো ঘটনা।

ফরাসি বিপ্লব, যুক্তরাজ্যের গৌরবময় বিপ্লব কিংবা বলশেভিক বিপ্লবের রূপ আমরা ইতিহাসে পাঠ করেছি। তবে জুলাইয়ের লড়াই ও ৫ আগস্টের সাফল্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।


তিনি মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষের সুপ্ত গণশক্তির প্রকাশ যখন ঘটে, তখন স্বৈরাচারী শাসকদের ক্ষমতার ভিত পুরোপুরি ধসে যায়। ক্ষমতাদর্পী ও গণবিরোধী শাসকরা সবসময়ই সাধারণ মানুষের এই শক্তির বিষয়টি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়।

মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির মূল বিষয়বস্তু ছিল বিগত আন্দোলনে সংগঠনের ভূমিকা ও আত্মত্যাগ।

রিজভী তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করেন যে, এই রক্তাক্ত লড়াইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, খেটে খাওয়া রিকশাচালক ও সাধারণ শ্রমিকরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের এই চরম বলিদানের ঘটনা বিশ্বজুড়ে যেকোনো জুলুমবাজ ও অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক অমর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত পৌনে দুই দশকে বিএনপি ও তার ছাত্রসংগঠনের অগণিত নেতাকর্মী গুম, অন্যায় হত্যাকাণ্ড ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে চলা সেই রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের পটভূমিই পরবর্তীতে জুলাইয়ের পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের রূপ নেয়।

তৎকালীন সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য একনায়কদের সাথে এই শাসনের মৌলিক পার্থক্য ছিল। অন্যান্য শাসকরা দেশ গঠনে মনোযোগ দিলেও তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী ব্যাংক খাত নিঃশেষ করা, পুঁজিঁবাজার ধসানো, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ ও ভূমি গ্রাসে লিপ্ত ছিল। ইতিহাসের পাতায় এমন লোভাতুর ও স্বার্থান্বেষী আচরণের দৃষ্টান্ত দুর্লভ।

তিনি যোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে চলা নিপীড়নের চূড়ান্ত জবাবে সাধারণ মানুষই শেষ পর্যন্ত এই অন্যায়ের সমাপ্তি টেনেছে। জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে অত্যাচারী শক্তির অপসারণ ঘটেছে তুলা উড়ে যাওয়ার মতো সহজে।

উক্ত সাংস্কৃতিক ও স্বারক আয়োজনে ছাত্রদলের প্রাক্তন ও বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।