রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ প্রণালি খুলতে বুধবারের মধ্যে সমঝোতার আশা মার্কিন অর্থমন্ত্রীর

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জলযান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বুধবারের মধ্যেই একটি ইতিবাচক চুক্তিতে রূপ নিতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

হরমুজ প্রণালি খুলতে বুধবারের মধ্যে সমঝোতার আশা মার্কিন অর্থমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জলযান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বুধবারের মধ্যেই একটি ইতিবাচক চুক্তিতে রূপ নিতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

এই মধ্যস্থতা সফল হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের বাজার শান্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জট কাটবে বলে মনে করছেন তিনি।


মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা গতিশীল রয়েছে এবং মঙ্গল বা বুধবারের মধ্যেই প্রণালিটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যকার তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনাও কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকার চলাকালে বাণিজ্যিক নৌযানগুলো থেকে ইরানকে অর্থ আদায় বা টোল নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের মুখে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে স্বাধীন ও অল বাধাহীনভাবেই চলাচলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি খুলে যাওয়ার আভাস দিয়েছিলেন। তেহরানের ওপর নতুন করে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।

অবশ্য হোয়াইট হাউসের এমন সুসংবাদের বিপরীতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো প্রকার বৈঠক বা দরকষাকষির খবর শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে ইরানি পররাষ্ট্র দপ্তর। এছাড়া মঙ্গলবার ওই জলসীমায় একটি আন্তর্জাতিক জাহাজে রকেট জাতীয় বস্তুর আঘাত হানার ঘটনা দুই পক্ষের চলমান উত্তেজনাকে আবারও কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রীর মতে, প্রণালিটি খুলে দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ওই সংবেদনশীল নৌপথে শতাধিক রাসায়নিক ও জ্বালানিবাহী ট্যাংকার নোঙর করে আছে। নতুন চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এসব জলযান নিরাপদে তাদের গন্তব্যে রওনা হতে পারবে। পরিস্থিতি জটিল হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু জাহাজকে নিরাপদে ওই এলাকা অতিক্রম করতে দেখা গেছে বলে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফেরার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।