সুনামগঞ্জের দুর্গম এবং হাওর অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
এর পাশাপাশি বিদ্যালয়ভিত্তিক টিফিন বিতরণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা শৈথিল্য পরিলক্ষিত হলে শিক্ষক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন তিনি। সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় মিলনায়তনে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বিষয়ক পরিচিতিমূলক ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির আসন থেকে তিনি এই ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, বিদ্যালয় ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের টিফিনে পাঁচটি ভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করার কথা রয়েছে, যার অংশ হিসেবে সপ্তাহে একদিন ফল হিসেবে কলা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে এবং নির্ধারিত দিনে কলা সরবরাহ করা না হয়, তবে এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া বর্তমানে দুধের উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতি থাকায় আপাতত প্রতি দুই সপ্তাহে একবার এটি প্রদান করা হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে সরবরাহ বাড়লে তা পুনরায় সপ্তাহে দুই দিন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খাদ্য বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় জানান, টিফিনে বরাদ্দকৃত পাঁচ পদের খাবারে কোনো ঘাটতি পেলে প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই কৈফিয়ত দিতে হবে। সরবরাহকারীদের ক্ষেত্রেও নিয়মাবলী আরও কঠোর করা হয়েছে যার মধ্যে খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ এবং তাদের বৈধ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা এসব খাদ্যসামগ্রী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করবেন এবং পণ্য গ্রহণের সময় স্থানীয় মায়েদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি পণ্য সরবরাহকারী যানবাহনের চালকেরও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে বলে তিনি নির্দেশনা দেন। কোনো রকম অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে সরবরাহকারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাসসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষকবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।