রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

এপস্টেইনের সুইসাইড নোটে কী লেখা ছিল?

মার্কিন ধনকুবের ও শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুর সাত বছর পর তার হাতে লেখা একটি কথিত ‘সুইসাইড নোট’ বা আত্মহত্যার চিরকুট খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন তার কারাসঙ্গী। দীর্ঘ সময় ধরে এই চিরকুটটি জনৈক কারাসঙ্গীর মামলার গোপন নথির মধ্যে সংরক্ষিত ছিল বলে জানা গেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

এপস্টেইনের সুইসাইড নোটে কী লেখা ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ধনকুবের ও শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুর সাত বছর পর তার হাতে লেখা একটি কথিত ‘সুইসাইড নোট’ বা আত্মহত্যার চিরকুট খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন তার কারাসঙ্গী। দীর্ঘ সময় ধরে এই চিরকুটটি জনৈক কারাসঙ্গীর মামলার গোপন নথির মধ্যে সংরক্ষিত ছিল বলে জানা গেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

এপস্টেইনের সঙ্গে একই সেলে থাকা চার খুনের আসামি নিকোলাস টরটাগ্লিওনে জানান, ২০১৯ সালের আগস্টে মৃত্যুর ঠিক আগে চিরকুটটি লিখেছিলেন এপস্টেইন। আইনি কাজে ব্যবহৃত হলুদ রঙের প্যাড থেকে ছেঁড়া কাগজে লেখা ওই নোটটি একটি গ্রাফিক নোভেলের ভেতরে ভাঁজ করা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। টরটাগ্লিওনের দাবি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রথমবার আত্মহত্যার চেষ্টার কয়েক দিন পরেই তিনি এই চিরকুটটির সন্ধান পান। এর ঠিক দুই সপ্তাহ পর ম্যানহাটনের কারাগারে এপস্টেইনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষের রেকর্ড অনুযায়ী, ২৩ জুলাই এপস্টেইনকে তার সেলে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। তখন তার গলায় ফাঁস লাগানো ছিল এবং তিনি মেঝেতে কুঁকড়ে পড়ে ছিলেন। সে সময় তার গলায় লালচে ক্ষতচিহ্ন দেখা গেলেও কোনো কাটা দাগ ছিল না। প্রায় ছয় বছর নীরব থাকার পর গত বছর এক পডকাস্টে টরটাগ্লিওনে এই চিরকুটের কথা প্রথম প্রকাশ করেন। তার ভাষ্যমতে, নোটটিতে লেখা ছিল— ‘এফবিআই দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও আমার বিরুদ্ধে কিছু পায়নি। তোমরা কি চাও আমি এটা নিয়ে কান্নাকাটি করি?’ চিরকুটটির শেষে একটি হাসির চিহ্ন (ইমোজি) এঁকে লেখা ছিল— ‘বিদায় জানানোর সময় হয়েছে’।

চিরকুটটি পাওয়ার পর টরটাগ্লিওনে তা কারা কর্মকর্তাদের না দিয়ে নিজের আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। তার ভীতি ছিল যে, এপস্টেইন হয়তো নিজের আত্মহত্যার চেষ্টার দায় তার ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন, তাই তিনি এটি গোপন রাখেন। বর্তমানে মার্কিন ফেডারেল আদালতের নির্দেশে নোটটি সিলগালা অবস্থায় রয়েছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে তদন্তকারী মার্কিন বিচার বিভাগ বা অন্য কোনো সংস্থার কাছে এখনো এই চিরকুটটি পৌঁছায়নি।

নিউ ইয়র্ক টাইমস বর্তমানে এই নোটটি জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে। তাদের মতে, এপস্টেইনের শেষ দিনগুলোর মানসিক অবস্থা এবং তার মৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্য উন্মোচনে এই চিরকুটটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক প্রমাণ হতে পারে। উল্লেখ্য, ম্যানহাটন কারেকশনাল সেন্টারে এপস্টেইনের নিরাপত্তা ত্রুটি এবং রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক চলে আসছে। এই নতুন তথ্য সেই রহস্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।