রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশি

দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ আগুন লেগে ছয়জন প্রবাসী বাংলাদেশি পুড়ে মারা গেছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়িই নারায়ণগঞ্জ জেলায়। এদের চারজন সদর প্রশাসনিক অঞ্চলের আলীরটেক এলাকার এবং অপর একজন বক্তাবলী এলাকার নাগরিক বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে। বাকি একজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জ জেলার রিকাবিবাজার অঞ্চলে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশি
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ আগুন লেগে ছয়জন প্রবাসী বাংলাদেশি পুড়ে মারা গেছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়িই নারায়ণগঞ্জ জেলায়।

এদের চারজন সদর প্রশাসনিক অঞ্চলের আলীরটেক এলাকার এবং অপর একজন বক্তাবলী এলাকার নাগরিক বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে। বাকি একজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জ জেলার রিকাবিবাজার অঞ্চলে।

আঞ্চলিক সূত্রের খবরে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রশাসনিক অঞ্চলের কুইন্সটাউন নামক স্থানে অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠানে এই ধ্বংসাত্মক আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মর্মান্তিকভাবে নিহত প্রত্যেকেই দুর্ঘটনাকবলিত ওই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় ছিলেন।

স্থানীয় প্রতিনিধি রওশন আলী সংবাদ মাধ্যমকে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার এলাকা থেকে প্রাণ হারানো চারজন প্রবাসী মূলত একই পরিবারের সদস্য ও পরস্পর আত্মীয়। সুদূর প্রবাসে পরিজনদের এমন করুণ মৃত্যুর সংবাদে পুরো এলাকাজুড়ে মারাত্মক শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্বজনদের মাঝে কান্না থামছেই না।

যাইহোক, জাতীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায থেকে এ বিষয়ে এখনো সরাসরি কোনো চিঠি বা সংবাদ এসে পৌঁছায়নি। নারায়ণগঞ্জ সদর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন জানান, প্রশাসনিক মূল দপ্তর কিংবা বিদেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এখনো লিখিত কোনো খবর প্রদান করা হয়নি, এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকেও কেউ যোগাযোগ করেনি। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সমবেদনা জানাতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন প্রতিনিধিকে সার্বিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান একইভাবে উল্লেখ করেন, ঘরোয়াভাবে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হলেও সরকারি কোনো পত্র পাননি তারা। আগুনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও নিহতদের সঠিক পরিচয় পুরোপুরি নিরূপণে কাজ চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আফ্রিকার এই দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোকানপাটে আগুন লাগা ও বিচ্ছিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা মাঝেমধ্যেই নজরে আসে। তবে কুইন্সটাউনের এই অগ্নিকাণ্ডটিকে স্থানীয়রা চরমমাত্রার মর্মান্তিক ঘটনা বলে ধারণা করছেন। নিহতদের অবশিষ্টাংশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাপ্তরিক আইনি পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বার্তার অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্বজনরা।