প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের (অ্যাসেসমেন্ট) লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা ছাড়েন এই দুই পেসার। তবে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর তাসকিন আহমেদ ওখানেই অবস্থান করবেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ মূল স্কোয়াডের সাথে যুক্ত হবেন। অন্যদিকে চোটজনিত কারণে বহুল প্রতীক্ষিত এই টেস্ট সিরিজ থেকে বাদ পড়া নাহিদ রানা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরত এসে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া (রিহ্যাব) আরম্ভ করবেন।
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহরিয়ার নাফিস এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানান, কেবল সাইড স্ট্রেইনের জটিলতা নয়, বরং নাহিদের দীর্ঘদিনের শিনবোনের অসুবিধার সুনির্দিষ্ট কারণ বের করতেই তাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাইড স্ট্রেইন নির্দিষ্ট সময় পর স্বাভাবিক নিয়মেই সুস্থ হয়ে ওঠে, তবে তাঁর পায়ের পুরোনো চোটের স্থায়ী সমাধান ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের জন্যই এই অ্যাসেসমেন্টের সিদ্ধান্ত।
হুট করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে বিসিবির এই কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি আকস্মিক নয়। পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই যেসব গতি তারকা কিংবা মূল ক্রিকেটারদের শারীরিক অস্বস্তি রয়ে গেছে, তাঁদের এই ধরনের গভীর মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই দুই ক্রিকেটার প্রায় চার থেকে পাঁচ দিন সময় ধরে সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাবেন। উক্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে নাহিদ স্বদেশে ফিরে এসে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন, আর তাসকিন সরাসরি জাতীয় দলের বহরে যুক্ত হবেন।
দীর্ঘ ২৩ বছর দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আন্তর্জাতিক টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজের প্রথম ম্যাচটি আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ওভালে শুরু হতে যাচ্ছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ও সমাপনী টেস্টটি আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় মাঠে গড়াবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ দলের মূল বহরটি ৩১ জুলাই মধ্যরাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে। তবে মূল দলের পৌঁছানোর পূর্বেই এই দুই নির্ভরযোগ্য পেসারের শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সেরে নেওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে দলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।