রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

১৭ লাখ টাকায় চাকরির প্রতিশ্রুতি, ৪ জন গ্রেফতার

ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষার্থী বসানোর অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশের জাল প্রবেশপত্র তৈরি এবং মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত এই সংঘবদ্ধ চক্রটির অপর এক সহযোগীকে পলাতক আসামি করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

১৭ লাখ টাকায় চাকরির প্রতিশ্রুতি, ৪ জন গ্রেফতার
ছবি : সংগৃহীত
ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষার্থী বসানোর অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশের জাল প্রবেশপত্র তৈরি এবং মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত এই সংঘবদ্ধ চক্রটির অপর এক সহযোগীকে পলাতক আসামি করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের বাসিন্দা মো. আশরাফুল ইসলাম, রংপুর অঞ্চলের তাজমিলুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের রংপুর কার্যালয়ে কর্মরত কর্মচারী মো. বাদশা মাসউদ আলম এবং নুরুল ইসলাম। উক্ত ঘটনায় মো. নুরুল ইসলাম নামে অপর এক অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসূত্রে জানা যায়, শুক্রবার অপরাহ্নে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র সংলগ্ন ফটকে দায়িত্ব পালনকালে আশরাফুল ইসলামের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে ডিবি সদস্যরা তাঁর নথিপত্র যাচাই শুরু করেন। পর্যালোচনায় তাঁর কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি ভুয়া প্রমাণিত হয় এবং একই স্থান থেকে প্রক্সি পরীক্ষার্থী তাজমিলুরকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল স্বীকার করেন যে, ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিস কর্মী বাদশা মাসউদ ও তাঁর সহযোগী। সেই প্রলোভনে রাজি হয়ে চুক্তি অনুযায়ী ঢাকা ব্যাংকের একটি নির্দিষ্ট হিসাবে আড়াই লাখ টাকাও প্রদান করেন তিনি।

পরবর্তীতে ডিজিটাল বার্তা আদান-প্রদান মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের সাহায্যে তাঁকে জাল প্রবেশপত্রটি পাঠানো হয়, যা নিয়ে তিনি সরাসরি কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন। উল্লেখ্য, ওই চাকরিপ্রার্থী নিয়োগের প্রাথমিক ও বাধ্যতামূলক শারীরিক পরীক্ষাতেই অংশ নেননি।

আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল কারিগর বাদশা মাসউদকে গ্রেফতার করে। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় জালিয়াতি, আর্থিক লেনদেন এবং ভূয়া প্রবেশপত্র সরবরাহের অকাট্য তথ্য মেলে।

তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে পুলিশের বিভিন্ন শীর্ষ কর্মকর্তা ও কেন্দ্র নিয়ন্ত্রকদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টাও চালিয়ে আসছিল।

এই জালিয়াতির ঘটনায় কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল কাদের নিশ্চিত করেন যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের ধরতে এবং চক্রটিকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পুলিশি অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে।